Job

বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রম (Syntax)

- বাংলা - বাংলা ভাষা (ব্যাকরণ) | NCTB BOOK
2.9k

বাংলা ব্যাকরণের যে অংশে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে বাক্যতত্ত্ব বলে।

এক বা একাধিক শব্দ একসাথে মিলিত হয় বাক্য তৈরি করে থাকে। বাক্য গঠনের মাধ্যমে মানুষ তার মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করতে পারে। বাক্য এমন হওয়া উচিত যা অন্যের বোধগম্য হয় এবং নিজে যা বলতে যাচ্ছে তা সহজ ভাবে বুঝাতে পারে।

বাক্যতত্ত্ব বা পদক্রমের আলোচ্য বিষয়

বাক্য, বাক্যের অংশ, বাক্যের প্রকার , বাক্য পরিবর্তন , পদক্রম , বাগধারা , বাক্য সংকোচন , বাক্য সংযোজক, বাক্য বিয়োজক, বাচ্য, যতিচ্ছেদ বা বিরামচিহ্ন ইত্যাদি

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

গুরুচন্ডলী দোষ
বাহুল্য দোষ
দুর্বোধ্যতা দোষ
বিদেশী শব্দ দোষ

বাক্য

3.1k

বাক্যের মেীলিক উপাদান শব্দ হলে ও ভাষার মূল উপকরণ বাক্য। এই বাক্য সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে না পারলে বাক্য তার ভাষাগত যোগ্যতা হারায়। যার ফলস্বরুপ মনের ভাব সুস্পষ্টরুপে প্রকাশ করা সম্ভব হয় না বা আমরা যথাযথভাবে বুঝতে পারি না।ত্রুটিমুক্ত বাক্যই পারে সঠিকভাবে মনের ভাব প্রকাশ করতে। ভাষাগত যোগ্যতার বিচারে সঠিক বাক্য বলা বা প্রয়োগ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাক্য: যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোনো বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়, তাকে বাক্য বলে। যেমন: সজল ও লতা বই পড়ে।

সাধারণ বাক্যের প্রধান অংশ তিনটি। যথা: কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়া। বাক্যের ক্রিয়াকে যে চালায়, সে হলো কর্তা। যাকে অবলম্বন করে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে বলে কর্ম। আর বাক্যের মধ্যে যে অংশ দিয়ে কোনো কিছু করা, ঘটা বা হওয়া বোঝায়, তাকে বলে ক্রিয়া। যেমন: সজল ও লতা বই পড়ে। এখানে 'সজল ও লতা' হলো কর্তা, 'বই' হলো কর্ম এবং 'পড়ে' হলো ক্রিয়া।

বাক্যের ভিত্তি: ভাষার বিচারে বাক্যের নিম্নলিখিত তিনটি গুণ থাকা চাই।

যেমন:

ক) আকাঙ্খা

২) আসত্তি

৩) যোগ্যতা

গঠন অনুযায়ী বাক্য তিন প্রকার।

যথা: সরল বাক্য, জটিল বাক্য ও যৌগিক বাক্য।

উদাহরণ: আমি পড়াশোনা শেষ করে খেলতে যাব। যখন আমার পড়াশোনা শেষ হবে, তখন আমি খেলতে যাব। আমি পড়াশোনা শেষ করব; তারপর খেলতে যাব।

প্রথম বাক্যে একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া আছে। এটি সরল বাক্য। দ্বিতীয় বাক্যের দুটি অংশ 'যখন' ও 'তখন' যোজক দ্বারা যুক্ত হয়েছে। এটি জটিল বাক্য। তৃতীয় বাক্যে 'করব' ও 'যাব' দুটি সমাপিকা ক্রিয়া রয়েছে। এটি যৌগিক বাক্য।

অর্থানুসারে বাক্যর প্রকারভেদঃ

অর্থানুসারে বাক্য সাত প্রকার। যথা:

ক. বিবৃতিমূলক বা বর্ণনামূলক বা নির্দেশমূলক বাক্য। যেমন:

এখান থেকে যাও (নির্দেশাত্মক)।

আমি ভাত খাই (বিবৃতিমূলক)।

সে ঢাকা যাবে (হ্যাঁ-বাচক)।

আমি বলতে চাই না (না-বাচক)।

আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।

তারা তোমাদের ভুলেনি।

খ. প্রশ্নবাচক বাক্য। যেমন:

তোমার নাম কী?

কী পড়ছ?

যাবে নাকি? কোথায় যাচ্ছ?

সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য। যেমন:

বল বীর বল উন্নত মম শির।

উঠে দাঁড়াও।

আমাকে একটি কলম দাও।

ঘ. ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য। যেমন:

মহারাজের জয় হোক।

তোমার মঙ্গল হোক।

ঈশ্বর তোমাকে জয়ী করুন।

দীর্ঘজীবী হও।

পরীক্ষায় সফল হও।

তার মঙ্গল হোক।

ঙ. কার্যকারণাত্মক বাক্য। যেমন: কষ্ট না করলে কেষ্ট মিলে না।

চ. সংশয়সূচক বাক্য। যেমন: বোধ হয়, ছেলেটা চাকুরি পেয়ে যাবে।

ছ. বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য।

যেমন: হে সিন্ধু!

বন্ধু মোর-মজিনু তব রূপে!

হুররে! আমরা জিতেছি

দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।

অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

Content added || updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

আসত্তি
রীতি
আকাঙক্ষা
যোগ্যতা
গুরুচন্ডালী দোষে
দুর্বোধ্যতা দোষে
উচ্চারণ দোষে
বাহুল্য দোষে
সরল বাক্য
নির্দেশক বাক্য
যৌগিক বাক্য
জটিল বাক্য

আকাঙ্ক্ষা

1.4k

আকাঙ্খা: বাক্যের অর্থ পরিস্কার ভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা তাই আকাঙ্খা। যেমন:

অপূর্ণাঙ্গ বাক্য : রহিম খুব। (আকাঙ্খার নিবৃত্তি হয়নি, আরও কিছু শোনার ইচ্ছা হয়)

পূর্ণাঙ্গ বাক্য : রহিম খুব ভাল ছেলে। (আকাঙ্খার নিবৃত্তি হয়েছে)

Content added By

আসত্তি

1.5k

আসত্তি: মনোভাব প্রকামের জন্য বাক্যে শব্দগুলোকে এমন ভাবে পর পর সাজাতে হবে যাতে মনোভাব প্রকাশে বাধাগ্রস্ত না হয়। বাক্যে অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য সুশৃঙ্খল পদবিন্যাসই আসত্তি।

আসত্তিহীন লেখা : খুব ছেলে রহিম ভাল। (মনোভাব প্রকাশিত হয়নি)

আসত্তি সম্পন্ন বাক্যঃ রহিম খুব ভাল ছেলে। (মনোভাব পূর্ণ ভাবে প্রকাশিত হয়েছে)

Content added By

যোগ্যতা

1.4k

যোগ্যতা: বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা। যেমন: যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্য: 'বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়'। কারণ বাক্যস্থিত পদসমূহের অর্থগত এবং ভাবগত সমন্বয় আছে।

যোগ্যতাহীন বাক্য: 'বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে'। বাক্যটি ভাবপ্রকাশে যোগ্যতা হারিয়েছে। কারণ, রৌদ্র প্লাবন সৃষ্টি করে না।

Content added By

উদ্দেশ্য

1.3k

প্রতিটি বাক্যে প্রধানত দুটি অংশ থাকে। যথা:

ক. উদ্দেশ্য

খ. বিধেয়।

উদ্দেশ্য: বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য বলে।

Content added By

বিধেয়

1.4k

প্রতিটি বাক্যে প্রধানত দুটি অংশ থাকে। যথা:

ক. উদ্দেশ্য

খ. বিধেয়।

বিধেয়: উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলে। যেমন: খোকা এখন বই পড়ছে। সুমন বল খেলে। (এখানে 'সুমন' হলো উদ্দেশ্য এবং 'বল খেলে' হলো বিধেয়।)

বাক্য দীর্ঘতর হলে উদ্দেশ্য ও বিধেয় অংশের সঙ্গে নানা ধরনের শব্দ ও বর্গ যুক্ত হতে পারে। উদ্দেশ্য ও বিধেয়কে এইসব শব্দ ও বর্গ প্রসারিত করে বলে এগুলোর নাম প্রসারক। এছাড়া বিধেয় ক্রিয়ার বিশেষ্য অংশকে বলা হয় পূরক। যেমন: সেলিম সাহেবের ছেলে সুমন গাছতলায় বসে বই পড়ছে। এখানে 'সুমন' উদ্দেশ্য, 'সেলিম সাহেবের ছেলে' উদ্দেশ্যের প্রসারক। অন্যদিকে 'পড়ছে' বিধেয়ের ক্রিয়া, 'গাছতলায় বসে' বিধেয়ের প্রসারক এবং 'বই' হলো বিধেয়ের পূরক।

সাধারণত উদ্দেশ্যের পূর্বে উদ্দেশ্যের প্রসারক এবং বিধেয়ের পূর্বে বিধেয়ের প্রসারক বসে। তবে বিধেয়ের স্থান ও কাল সংক্রান্ত প্রসারক উদ্দেশ্যের পূর্বেও বসতে পারে। যেমন: ১৯৫২ সালে ঢাকার রাজপথে বাঙালি জাতির অহংকার রফিক-সালাম-বরকত-জব্বার মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এ বাক্যে উদ্দেশ্য হলো 'রফিক-সালাম-বরকত-জব্বার', উদ্দেশ্যের প্রসারক হলো 'বাঙালি জাতির অহংকার'। বিধেয় ক্রিয়া হলো 'উৎসর্গ করেছিলেন', বিধেয়ের পূরক হলো 'জীবন'। অন্যদিকে '১৯৫২ সালে', 'ঢাকার রাজপথে' এবং 'মাতৃভাষার জন্য'- এ তিনটি অংশ হলো বিধেয়ের প্রসারক।

বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা:

১. সক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে। যেমন: আমার মা চাকরি করেন।

২. অক্রিয় বাক্য: যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে। যেমন: তিনি বাংলাদেশের নাগরিক।

তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়। যেমন:

তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। (অতীত)

তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন। (ভবিষ্যৎ)

Content added By

ইতিবাচক বাক্য

1.6k

ইতিবাচক বাক্য হল এমন কোনো বিবৃতি যা নেতিবাচকের পরিবর্তে ইতিবাচক, যেখানে ক্রিয়াটি বিষয়গুলিকে সক্রিয়ভাবে কিছু করছে বলে প্রকাশ করে।

Content added By

নেতিবাচক বাক্য

2.4k

যে বাক্যের মাধ্যমে কোনো কিছুর অস্বীকৃতি, অভাব, বা না-বোধক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে নেতিবাচক বা না-বোধক বাক্য বলে।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

তবু না বলা কথাটি মেনে নেয় না
তবু না বলা কথাটি সবাই মেনে না নিয়ে পারে না
তবু না বলা কথাটি সবার না মানার উপায় থাকে না
তবু না বলা কথাটি সবার মানতে হয়।
তবু না বলা কথাটি সবাই মেনে নেয় না
তবু না বলা কথাটি সবাই মেনে না নিয়ে পারে না
তবু না বলা কথাটি সবার না মানার উপায় থাকে না
তবু না বলা কথাটি সবার মানতে হয়
তবু না বলা কথাটি সবাই মেনে নেয় না।
তবু না বলা কথাটি সবাই মেনে না নিয়ে পারে না।
তবু না বলা কথাটি সবার না মানার উপায় থাকে না।
তবু না বলা কথাটি সবার মানতে হয়।
হৈম তাহার অর্থ বুঝিতে ব্যর্থ হইল
হৈম তাহার অর্থ বুঝিল না
হৈম কি তাহার অর্থ বুঝিল না ?
হৈম তাহার অর্থ বুঝিল !

সরল বাক্য

1.4k

সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন:

আয়নাল (উদ্দেশ্য) এখন বই লিখছে (বিধেয়)।

পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।

বিদ্বান লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।

ধনের ধর্মই অসাম্য।

আমি পড়াশোনা শেষ করে খেলতে যাব।

পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।

তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

বৃষ্টি হচ্ছে। তোমরা বাড়ি যাও।

খোকা আজ সকালে স্কুলে গিয়েছে।

স্নেহময়ী জননী স্বীয় সন্তানকে প্রাণাপেক্ষা ভালবাসেন।

বিশ্ববিখ্যাত মহাকবিরা ঐন্দ্রজালিক শক্তিসম্পন্ন লেখনী দ্বারা অমরতার সংগীত রচনা করেন

জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।

সরল বাক্যে অনেক সময় ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে। যেমন: আমরা তিন ভাইবোন।

বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়। যেমন: তিনি খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।

বাক্যের শুরুতে অসমাপিকা ক্রিয়া এবং পরে সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে সরল বাক্য গঠিত হয়। যেমন: মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে। প্রদত্ত উদাহরণটিতে অসমাপিকা ক্রিয়া 'করলে' এর মাধ্যমে বাক্যের কর্তা গঠিত হয়েছে এবং এতে একটি সমাপিকা ক্রিয়া 'করে' বিদ্যমান। সুতরাং, এটি সরল বাক্য।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

গুরুচন্ডালী
বাহুল্য দোষে
দুর্বোধাতা দোষে
বিদেশি শব্দ দোষে
সত্য কথা বলিনি, তাই বিপদে পড়েছি।
মেঘ গর্জন করলে, ময়ূর নৃত্য করে।
বিপদ এবং দুঃখ এক সময়ে আসে।
যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।
অবিরাম ভয়াল শব্দে বাজ পড়ছে।
বিরামহীন ভয়াল শব্দ হচ্ছে আর বাজ পড়ছে
ভয়াল শব্দ কবু বাজ পড়ার বিরাম ন্
বিাজ পড়ছে ভয়াল শব্দে অবিরাম
যদি আমার কথা না শুনলে অনুতাপ করবে
যদি আমার কথা শুনলে অনুতাপ করবে
আমার কথা না শুনলে ভবিষ্যতে অনুতাপ করবে
ভবিষ্যতে যদি আমার কথা না শুনলে অনুতাপ করবে
কোনটিই নয়
আমার কথা না শুনলে অনুতাপ করবে
আমার কথা শুনলে অনুতাপ করবে
আমার কথা না শুনলে ভবিষ্যতে অনুতাপ করবে
ভবিষ্যতে আমার কথা না শুনলে অনুতাপ করবে
কোনটিই নয়

জটিল বাক্য

1.4k

জটিল বাক্য: যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের সাথে এক বা একাধিক আশ্রিতবাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বাক্য বলে। যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে। যেমন: যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

জটিল বাক্য চেনার শর্ত ২টি। যথা:

ক. দুটি খণ্ডবাক্য একটি শর্ত দ্বারা যুক্ত থাকবে।

খ. সাপেক্ষ যোজক অথবা সর্বনাম (যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যা-তা, যদি-তবে, যদিও-তবুও) থাকবে। উদাহরণ:

আশ্রিত বাক্য

প্রধান খণ্ডবাক্য

যে পরিশ্রম করে,সেই সুখ লাভ করে।
সে যে অপরাধ করেছে,তা মুখ দেখেই বুঝেছি।
যতই পরিশ্রম করবে,ততই ফল লাভ করবে।
যখন আমার পড়াশোনা শেষ হবে,তখন আমি খেলতে যাব।
যে ছেলেটি এখানে এসেছিল,সে আমার ভাই।
যদি তুমি যাও,তবে তার দেখা পাবে।
যখন বৃষ্টি নামল,তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার। যথা:

ক. বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের যে কোনো পদের আশ্রিত থেকে বিশেষ্যের কাজ করে, তাকে বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। বিশেষ্য স্থানীয় খণ্ডবাক্য ক্রিয়ার কর্মরূপে ব্যবহৃত হয়। যথা: আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম, খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে। তিনি বাড়ি আছেন কি না, আমি জানি না। ব্যাপারটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ফল ভালো হবে না।

খ. বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য প্রধান খণ্ডবাক্যের অন্তর্গত কোনো বিশেষ্য বা সর্বনামের দোষ, গুণ এবং অবস্থা প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন: লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই। খাঁটি সোনার চাইতে খাঁটি, আমার দেশের মাটি। ধনধান্য পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা। যে এ সভায় অনুপস্থিত, সে বড় দুর্ভাগা।

গ. ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য: যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে। যেমন: যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে। তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি। যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সূর্য অস্ত যাচ্ছিল এবং সভাপতি সভায় পৌঁছেছিলেন
সূর্যাস্তের সময় সভাপতি সভায় পৌঁছেছিলেন
সভাপতি সভায় পৌঁছানো মাত্রই সূর্য অস্ত গেল
যখন সূর্য অস্ত যাচ্ছিল তখন সভাপতি সভায় আসলেন।
নিয়মিত পড়াশুনা করলে পরীক্ষায় ভাল ফল পাওয়া যায়
সত্য কথা বলেনি, তাই বিপদে পড়েছে
যদিও তিনি ধনী, তবু তার কোনো অহঙ্কার নেই
মিথ্যাবাদী মানুষকে কেউ ভালোবাসে না

যৌগিক বাক্য

1.6k

যৌগিক বাক্য: দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

দ্রষ্টব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বা স্বাধীন বাক্যগুলো এবং, ও, আর, বা, কিন্তু, অথবা, অথচ, বরং, সেজন্য, ফলে, তথাপি প্রভৃতি যোজক দ্বারা সংযুক্ত থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে। যেমন: তিনি সৎ কিন্তু কৃপণ। সত্য কথা বলিনি তাই বিপদে পড়েছি। আমি পড়াশোনা শেষ করব; তারপর খেলতে যাব। জননেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু কোনো পথ দেখাতে পারলেন না। বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ। উদয়াস্ত্র পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হবো না। রহমত রাতে রুটি খায় আর রহিমা খায় ভাত। হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে। সে ঘড় ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল। অন্ধকার হয়ে এসেছে বন্ধুরাও মুখ ভার করে রইল। তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি - এতে দোষের কিছু নেই।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

দোষ স্বীকার করলে তোমাকে শাস্তি দেওয়া হবে না।
তিনি বেড়াতে এসে কেনাকাটা করলেন
মহৎ মানুষ বলে সবাই তাঁকে সম্মান করেন
ছেলেটি চঞ্চল তবে মেধাবী

তুমি আমার বাড়িতে না আসলে আমি অখুশি হব।

তুমি আমার বাড়িতে আসলে আমি খুশি হব

তুমি আমার বাড়িতে এস, আমি খুশি হব

তুমি যদি আমার বাড়িতে আস আমি খুশি হব

এখন যেতে পারো
শিক্ষার মন সংস্কার হয়ে থাকে
মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন
এ চক্র তো করতেই হবে

নির্দেশক বাক্য

1.3k

যে সব বাক্যের মাধ্যমে সাধারণ ভাবে কোনো বিবৃতি বা বর্ণনা দেওয়া হয়, তাকেই নির্দেশক বাক্য বলে।

Content added By

প্রশ্নবোধক বাক্য

1.4k

প্রশ্নবোধক বাক্য হলো এমন বাক্য যা কোনো কিছু জানতে বা প্রশ্ন করতে ব্যবহৃত হয় এবং এর শেষে অবশ্যই একটি প্রশ্নচিহ্ন (?) বসে ।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুজ্ঞাসূচক বাক্য

1.6k

যেসব বাক্যের মাধ্যমে আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, নিষেধ, অনুমতি, বা আমন্ত্রণ প্রকাশ করা হয়, সেগুলোকে অনুজ্ঞাসূচক বাক্য বলে ।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

তুমি গিয়েছিলে
তুমি যাও
তুমি যাচ্ছিলে
তুমি যাচ্ছ

বিস্ময়সূচক বাক্য

1.4k

বিস্ময়সূচক বাক্য হলো এমন বাক্য, যা মনের আকস্মিক আবেগ, বিস্ময়, আনন্দ, দুঃখ বা রাগ তীব্রভাবে প্রকাশ করে । এ ধরনের বাক্যের শেষে সাধারণত একটি বিস্ময়বোধক চিহ্ন (!) ব্যবহৃত হয় । এগুলো প্রায়শই 'কী' বা 'কত' দিয়ে শুরু হয় ।

Content added By

ইচ্ছাসূচক বাক্য

1.4k

যে বাক্যে বক্তার মনের কোনো ইচ্ছা, বাসনা, কামনা, প্রার্থনা বা আশীর্বাদ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছাসূচক বা ইচ্ছাবোধক বাক্য বলে । একে বাসনা-কামসূচক বাক্যও বলা হয়ে থাকে প্রথম আলো । সাধারণত ‘দীর্ঘজীবী হোন’, ‘ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন’—এ ধরণের বাক্য এর অন্তর্ভুক্ত।

Content added By

বিরাম চিহ্ন বা যতি চিহ্ন

2.5k

বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝার জন্য বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের সমাপ্তিতে কিংবা বাক্যে আবেগ (হর্ষ, বিষাদ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে বাক্য গঠনে যে ভাবে বিরতি দিতে হয় এবং লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখাবার জন্য যে সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তা-ই যতি বা বিরাম বা ছেদচিহ্ন।

বিরাম চিহ্ন ব্যবহৃত হবার কারণঃ

ক. বাক্যের অর্থ সহজভাবে বোঝাতে,
খ. শ্বাস বিরতির জায়গা দেখাতে,
গ. বাক্যকে অলংকৃত করতে,
ঘ. বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণের জন্য,

বিরাম বা যতি চিহ্ন এর প্রবর্তক

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর । বাংলা সাহিত্যে দাঁড়ি, কমা, কোলন প্রভৃতি বিরাম চিহ্ন তিনি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন। এজন্য তাকে বাংলা যতি চিহ্নের প্রবর্তক বলা হয় ।

বিরাম বা যতি চিহ্ন

বিরাম বা যতি চিহ্ন মোট ১২টি। নিম্নে এদের নাম, আকৃতি এবং তাদের বিরতিকালের পরিমাণ নির্দেশিত হলো-

যতি চিহ্নের নাম

আকৃতি

বিরতিকাল-পরিমাণ

কমা (পাদচ্ছেদ)

,

১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন
সেমিকোলন(অর্ধচ্ছেদ)

;

১ বলার দ্বিগুণ সময়
দাঁড়ি (পূর্ণচ্ছেদ)

এক সেকেন্ড
জিজ্ঞাসা চিহ্ন

?

বিস্ময় চিহ্ন

!

কোলন

:

কোলন ড্যাস

:-

ড্যাস

-

উদ্ধরণ চিহ্ন

“ ”

এক উচ্চারণে যে সময় লাগে
ইলেক বা লোপচিহ্ন

'

থামার প্রয়োজন নাই
হাইফেন

-

ব্রাকেট (বন্ধনী চিহ্ন)

(),{},[]

বাক্যের অভ্যন্তরে বসে : কমা, সেমিকোলন, ড্যাস (৩টি)। বাক্যের প্রান্তে বসে : দাঁড়ি, প্রশ্নচিহ্ন, বিস্ময়চিহ্ন (৩টি)

যতি বা বিরাম চিহ্নের ব্যবহার

১. কমা / পাদচ্ছেদ (,):

ক. বাক্য পাঠকালে সুস্পষ্টতা বা অর্থ-বিভাগ দেখাবার জন্য যেখানে স্বল্প বিরতির প্রয়োজন, সেখানে কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে পরিশ্রমে।

খ. পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে বসলে শেষ পদটি ছাড়া বাকি সবগুলোর পরই কমা বসবে। যেমন- সুখ, দুঃখ, আশা, নৈরাশ্য একই মালিকার পুষ্প।

গ. সম্বোধনের পরে কমা বসাতে হয়। যেমন- রশিদ, এখানে আস ।

ঘ. মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর কমা বসবে। যেমন- ১৬ই পৌষ, বুধবার, ১৩৯০ বঙ্গাব্দ ।

ঙ. উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে (খণ্ড বাক্যের শেষে) কমা বসাতে হবে। যেমন- অধ্যক্ষ বললেন, “ছুটি পাবেন না।”

চ. বাড়ি বা রাস্তার নম্বরের পরে কমা বসে। যেমন- ৬৫, নবাবপুর রোড, ঢাকা।

২. সেমি কোলন (;): কমা অপেক্ষা বেশি বিরতির প্রয়োজন হলে, সেমি কোলন বসে। একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বাক্যে লিখলে সেগুলোর মাঝখানে সেমি কোলন বসে। যেমন- সংসারের মায়াজালে আবদ্ধ আমরা; সে মায়ার বাঁধন কি সত্যিই দুশ্ছেদ্য?

৩. দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ (। ): বাক্যের পরিসমাপ্তি বোঝাতে দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ ব্যবহার করতে হয়। যেমন- কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার।

৪. প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?): বাক্যে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করা হলে, বাক্যের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসে। যেমন- তুমি কখন এলে?

৫. বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন (!): হৃদয়াবেগ প্রকাশ করতে হলে এবং সম্বোধন পদের পরে বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন বসে। যেমন- আহা! কি চমৎকার দৃশ্য।

৬. কোলন ( : ) : একটি অপূর্ণ বাক্যের পরে অন্য একটি বাক্যের অবতারণা করতে হলে কোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন- সভায় সাব্যস্ত হলো : এক মাস পরে নতুন সভাপতি নির্বাচিত করা হবে।

৭. ড্যাস চিহ্ন (-): যৌগিক ও মিশ্র বাক্য পৃথক ভাবাপন্ন দুই বা তার বেশি বাক্যের সমন্বয় বা সংযোগ বোঝাতে ড্যাস চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। কোনো কথার দৃষ্টান্ত বা বিস্তার বোঝাতে ড্যাস চিহ্ন বসে। যেমন- তোমরা দরিদ্রের উপকার কর এতে - তোমাদের সম্মান যাবে না - বাড়বে।

৮. কোলন ড্যাস (:-): উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতে হলে কোলন এবং ড্যাস চিহ্ন একসাথে ব্যবহৃত হয়। যেমন- বর্ণ দুই প্রকার। যথা: স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ।

৯. হাইফেন বা সংযোগ চিহ্ন (-): সমাসবদ্ধ পদের অংশগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেখাবার জন্য হাইফেনের ব্যবহার করা হয়। দুই শব্দের সংযোগ বোঝাতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়। যেমন এ আমাদের শ্রদ্ধা - অভিনন্দন, আমাদের প্রীতি - উপহার।

১০. ইলেক বা লোপ চিহ্ন ('): কোনো বর্ণ বিশেষের লোপ বোঝাতে বিলুপ্ত বর্ণের জন্য লোপচিহ্ন দেয়া হয়। যেমন- মাথার‘পরে জ্বলছে রবি। (‘পরে = ওপরে)

১১. উদ্ধরণ চিহ্ন (“ ”): বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিকে এই চিহ্নের অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। যেমন- শিক্ষক বললেন, “গতকাল ‘অগ্রদূত বাংলা’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে।”

১২. ব্রাকেট বা বন্ধনী চিহ্ন : (), {}, [] এই তিনটি চিহ্নই গণিতশাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে প্রথম বন্ধনীটি বিশেষ ব্যাখ্যামূলক অর্থে সাহিত্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন- ত্রিপুরায় (বর্তমানে কুমিল্লা) তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অক্ষয় কুমার
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
চন্ডীচরণ মুনশী
কালীপ্রসন্ন সিংহ
অর্ধছেদ
দৃষ্টান্তছেদ
পাদচ্ছেদ
পূর্ণচ্ছেদ
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
প্যারীচাঁদ মিত্র
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

বানান শুদ্ধিকরণ

16.4k

বানান শুদ্ধিকরণ

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের রয়েছে হাজার বছরেরও বেশি দিনের গৌরবময় ইতিহাস; অথচ বাংলা বানানের ইতিহাস এখনো দুইশ বছরও হয়নি। উনিশ শতকের পূর্বে বাংলা বানানের নিয়ম বলতে তেমন কিছু ছিল না। উনিশ শতকের শুরুর দিকে যখন বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূত্রপাত ঘটে এবং ঐ সাহিত্যের বাহন হিসেবে সাহিত্যিক গদ্যের উন্মেষ হয়, তখন বাংলা বানানের একটি নিয়ম নির্ধারণ করা হয়। উল্লেখ্য যে, এই বানানের নিয়ম সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম মেনে রচনা করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে বিশ শতকের বিশের দশকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯৩৬ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বাংলা বানানের নিয়ম প্রবর্তিত হলেও বাংলা বানানের সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৯৮৮ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্মশালা করে ও বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে বাংলা বানানের নিয়মের একটি খসড়া প্রস্তুত করে। বিশ্বভারতী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের অনুসৃত বাংলা বানানের নিয়মের আলোকে ১৯৯২ সালে বাংলা একাডেমি 'প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' প্রণয়ন করে।

বাংলা একাডেমির 'প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম' ভাবনা-কেন্দ্রে রেখে বাংলা বানানের প্রধান নিয়মগুলো সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

ই-কার যুক্ত শব্দ:

শব্দের শেষে জগৎ, বাচক, বিদ্যা, সভা, ত্ব, তা, নী, ণী, পরিষদ, তত্ত্ব ইত্যাদি থাকলে তার পূর্বে ঈ-কার না হয়ে সাধারণত ই-কার হয়। যেমন-

অগ্নিবীণাঅধিকারিণীটিপ্পনীতপস্বিনী
প্রাণিবিদ্যাপ্রতিদ্বন্দ্বিতাপুনর্মিলনীপ্রণয়িনী
প্রাণিবাচকপ্রতিদ্বন্দ্বিতাভবিষ্যদ্বাণীমন্ত্রিপরিষদ
সহযোগিতাসহপাঠিনীস্থায়িত্বস্বয়ম্ভু

ঈ-কার যুক্ত শব্দ:

→ পুংলিঙ্গ শব্দ: গুণী, সুখী, মেধাবী, বাগ্মী, কর্মী, জয়ী, শ্রমী ইত্যাদি।

→ স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ: যামিনী, সখী, ব্যাঘ্রী, নদী, তরী, রজনী, ইন্দ্রাণী ইত্যাদি।

ঈ-কার যুক্ত বিবিধ শব্দ:

অঙ্গীকারইদানীংঅন্তরীপঅবীরা
অভীষ্টঅলীকঅধীনআত্মীয়
আভীরআশীর্বাদঈপ্সাঈপ্সিত
ঈর্ষাঈশ্বরঈষৎউড্ডীন
উদীচীউদীয়মানউন্মীলিতউড়িয়া/উড়ীয়া
উন্মীলনউশীরএকান্নবর্তীকরণীয়
কালীনকীচককীটকীদৃশ
কীর্তনকীর্তিকুলীনকীদৃশ
কৌপীনক্ষীণজীবীক্ষুৎপীড়িতগরীয়ান
গরীয়সীগম্ভীরগীতিকাগরীয়ান
গীষ্পতিগ্রীবাগ্রীষ্মচীন
চীবরচীরজিজীষাটীকা
তন্ত্রীতীর্ণতিতীর্ষুতিস্তিড়ী
তীক্ষ্ণতীব্রদধীচিদিলীপ
দীধিতিদীপ্তদ্বিতীয়দ্বীপ (দ্বিপ: হস্তী)
ধীরবনিমীলিতনিপীড়িতনিরীক্ষণ
নিরীহনিশীথনিশীথিনীনিষ্ঠীবন
নীচনিবীতনীড়নীহার
নীরবনীরসনীরোগপ্রতীক্ষা
পরীক্ষাপ্রতীয়মানপ্রবীণপীড়া
পিপীলিকাপ্রাচীনপীঠপ্রীত
প্রতীচ্যপৃথিবীপ্রতীকপ্রীতি
বীথিপ্রতীচীপ্রতীতিবিপরীত
বিবাদীবীপ্সাবাল্মীকিবুদ্ধিজীবী
বল্মীকবীভৎসবাণীব্রীহি
বীণাবীরবিকীর্ণবেণী
ভীরুবীজব্যতীতবীজন
ভীষণভীতভগীরথভাগীরথী
মহীভীমমঞ্জুরীমরীচিকা
শরীরমহীয়ানমীমাংসাশ্লীপদ
শর্বরীশিরীষশীঘ্রশীল
শালীনশীকরশীতলশীতাতপ
সীমাশীর্ণসীতাসুধী
স্ফীতসম্মুখীনসমীরণসরীসৃপ
সীমন্তসমীপসমীহসমীচীন
সুশ্রীহরীতকী

ঊ বা ঊ-কার যুক্ত স্ত্রীবাচক শব্দ: বধূ, শ্বশ্রু ইত্যাদি।

ঊ-কার যুক্ত বিবিধ শব্দ:

অনসূয়াঅসূয়াআহূতউলূক
ঊর্মিঊর্ণাঊর্ণনাভঊরু
উদূখলঊনঊঢ়ঊর্ধ্ব
ঊর্মিলাঊষরঊষাঊর্বর (উর্বর)
ঊহ্যকূটকূর্মকূল
কৌতূহলগণ্ডুষগূঢ়গোধূম
ঘূর্ণিঘূর্ণনঘূর্ণায়মানঘূর্ণমান/ঘূর্ণ্যমান
চূড়াচূতচূর্ণচূষ্য
জাগরূকজীমূতজ্ঞানভূষিততাম্রকূট
তূণতাম্বূলতূণীরতূর্ষ
তূর্ণতূলিকাতূলীত্যূষ (প্রত্যুষ)
দূরীভূতদূতদুকূলদূর্বা
দূষণীয়দূষকদূষিতদূর
দ্যূতধূমধূমধূপ
ধূর্জটিধূর্তধূলিধূসর
নিষ্ঠ্যূতনিব্যূঢ়নূতননূপুর
ন্যূনতমপূর্তিপূষাপূর্ব
প্রতিভূপ্রসূপ্রসূতপ্রসূতি
প্রসূয়পীযূষপূপপূরণ
পূতিপূতপূরকপূতিকা
বিদূষকব্যূহবাবদূকভূমি
ভূভূমাভূতভূয়ঃ
ভূতিভূষণভ্রূভ্রূণ
মূঢ়মূত্রমূর্ছামূল্য
ময়ূরমূর্খমূর্তমূষিক
মুহূর্তমুমূর্ষুমূর্তিমন্ডূক
মূকমরুভূমিমূর্ধন্যমন্ডূর
ময়ূখযবাগূযূথযূথিকা
যূনীযূপযূষরূপ
রূঢ়শার্দূলশূকশুশ্রূষা
শূদ্রশূন্যশূকরশূল
সূক্তসূচনাসূত্রসূপ
সূক্ষ্মসিন্দূরসূদনসূর
সূচিসূচকসদ্ভূয়সূর্য
সূতস্তূপসমূহস্ফূর্তি
সম্ভূয়হূন

অদ্ভুত, ভুতুড়ে ছাড়া সব ভূত উ-কার হবে। যেমন- উদ্ভূত, পরাভূত, দূরীভূত, কিম্ভুত, অভূতপূর্ব প্রভৃতি।

চন্দ্রবিন্দু-যুক্ত শব্দ: মূল শব্দে ঙ, ঞ, ণ, ন, ম থাকলে তার পূর্বস্বরে চন্দ্রবিন্দু যুক্ত হয়। যেমন-

আঁধারআঁক (অঙ্ক)গোঁফকাঁটা (কণ্টক)
ছেঁড়াছোঁয়াছোঁছোঁয়াচে
দাঁতদাঁড়িধাঁধাপাঁচ
পাঁজিবাঁকাবাঁশশাঁখ
হাঁটাহাঁস

ড়-কার যুক্ত শব্দ: আগড়, কড়াই, কড়া, পড়া (পাঠ), পাহাড়, বড়, বুড়া প্রভৃতি।

ব-ফলা যুক্ত কয়েকটি শব্দ। যেমন-

উচ্ছ্বাসউজ্জ্বলপার্শ্বদ্বন্দ্ব
প্রজ্বলিতপ্রতিদ্বন্দ্বীবিশ্বাসপক্ব
বিদ্বানবিশ্বস্তশ্বাসবন্ধুত্ব
মহত্ত্বরৌদ্রকরোজ্জ্বলস্বাদশাশ্বত
শ্বশ্রূশ্বশুরস্বত্বসান্ত্বনা
স্বচ্ছস্বাতন্ত্র্যস্বাধীনস্বায়ত্ত
স্বচ্ছন্দসরস্বতীস্বস্তিস্বায়ত্তশাসন
স্বীকারস্বরূপস্বাক্ষরসত্ব (সত্তা)
স্বতন্ত্রস্বার্থ (সার্থক)
  • বিস্ময়সূচক অব্যয় (যেমন- বাঃ/ ছিঃ / উঃ ইত্যাদি) ছাড়া শব্দের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকবে না। যেমন-

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

প্রধানতঃপ্রধানতবস্তুতঃবস্তুত
প্রায়শঃপ্রায়শকার্যতঃকার্যত
  • বিসর্গ (ঃ) যুক্ত শুদ্ধ শব্দ:
অতঃপরইতঃপূর্বেদুঃসময়দুঃসহ
দুঃস্বপ্নদুঃশাসনদুঃসাধ্যনিঃসন্দেহ
মনঃকষ্টমনঃক্ষুন্নশিরঃপীড়াস্বতঃস্ফূর্ত
  • যে-কোনো দেশ, ভাষা ও জাতির নাম লিখতে ই-কার (ি) হবে। যেমন-

দেশ: আমেরিকা, গ্রিস, জার্মানি, ইতালি, হাঙ্গেরি।

[ব্যতিক্রম: চীন, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ]

ভাষা: আরবি, হিন্দি, ফারসি, ইংরেজি, গ্রিক ইত্যাদি।

জাতি: বাঙালি, পর্তুগিজ, তুর্কি, বিহারি, ইরানি, আফগানি।

  • অপ্রাণিবাচক শব্দ ও ইতর প্রাণিবাচক অ-তৎসম শব্দের শেষে ই-কার ((ি) হবে। যেমন-

অপ্রাণিবাচক শব্দ : বাড়ি, গাড়ি, শাড়ি, চাবি ইত্যাদি।

ইতর প্রাণিবাচক শব্দ: পাখি, হাতি, মুরগি, চড়ুই ইত্যাদি।

  • তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে সর্বদা ঈ-কার হবে। যেমন-জননী, স্ত্রী, নারী, সাধ্বী ইত্যাদি।
  • বিদেশি শব্দের বানানে (ষ, ণ, ছ, ঢ়, ড়) এই পাঁচটি বর্ণ ব্যবহার করা যাবে না। যেমন-

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

ইছলামইসলামকর্ণেলকর্নেল
ব্যারিষ্টারব্যারিস্টারবামুণবামুন
ষ্টডিওস্টুডিওষ্টেশনস্টেশন
পোষ্টপোস্ট
  • বাংলা বানান রীতি অনুযায়ী একই শব্দের দুটি বানানই শুদ্ধ।
অন্তরীক্ষ-অন্তরিক্ষঅন্তঃস্থ-অন্তস্থঈর্ষা-ঈর্ষ্যা
কুমির-কুমীরকলস-কলশকিশলয়-কিসলয়
কুটির-কুটীরকুটির-কুটীরতরণি-তরণী
দেবকী-দৈবকীদাদি-দাদীদিঘি-দীঘি
নিমিষ-নিমেষপাখি-পাখীপ্রতিকার-প্রতীকার
বাড়ি-বাড়ীবাঁশি-বাঁশীমসুর-মসূর
মর্ত-মর্ত্যরজনি-রজনীশ্রেণি-শ্রেণী
সূচি-সূচীস্বামি-স্বামীহাতি-হাতী

স্ক/ষ্ক সংক্রান্ত সমস্যা:

ক. ই/উ যুক্ত বিসর্গ (ঃ) এর পর ক, খ, প, ফ থাকলে সাধারণত 'ষ' হবে। যেমন- আবিষ্কার, পরিষ্কার, দুষ্কর, দুষ্কার্য, নিষ্কলঙ্ক, নিষ্কর, জ্যোতিষ্ক প্রভৃতি।

খ. অ-যুক্ত বা মুক্ত বর্ণের পরে সাধারণত 'স' হবে। যেমন-নমস্কার, তিরস্কার, কুসংস্কার।

  • আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে সর্বদা ই-কার হবে। যেমন-

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

খেয়ালীখেয়ালিগীতালীগীতালি
বর্ণালীবর্ণালিমিতালীমিতালি
রূপালীরূপালিসোনালীসোনালি
  • রেফ এর পরে ব্যঞ্জনবর্ণে দ্বিত্ব হবে না। যেমন-

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

কার্ত্তিককার্তিককার্য্যকার্য
ধর্মসভাধর্মসভানিদ্দিষ্টনির্দিষ্ট
পর্ব্বতপর্বতমাধুর্য্যমাধুর্য
  • নিম্নলিখিত শব্দসমূহে কখনোই 'ং' প্রযুক্ত হবে না; কেবল 'ঙ' ব্যবহৃত হবে। যেমন-
অঙ্কঅঙ্গআঙ্গুলকঙ্কাল
অপাঙ্ক্তেয়অনুপুঙ্খআশঙ্কাগঙ্গা
অঙ্গীকারআকাঙ্ক্ষাইঙ্গিতপঙ্কিল
শৃঙ্খলশিক্ষাঙ্গনশঙ্কা
  • নিম্নলিখিত শব্দসমূহে কখনোই ও প্রযুক্ত হবে না; কেবল ং ব্যবহৃত হবে। যেমন-
অংশুঅংশবংশবারংবার
সংজ্ঞাসংবরণসংবর্ধনাসংবাদ
সংবিধানসংসারসংলাপহিংসা

নিম্নলিখিত শব্দসমূহে ঙ এবং ং উভয়ই ব্যবহৃত হবে।

অলঙ্কারঅলংকারঅহঙ্কারঅহংকার
পংক্তিপঙ্ক্তিভয়ঙ্করভয়ংকর
রঙরংশুভংকরশুভঙ্কর
সঙ্গীতসংগীতসংঘটনসঙ্ঘটন
  • লিঙ্গ-ঘটিত অশুদ্ধি:

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অধীনীঅধীনাঅনাথিনীঅনাথা
অভাগিনীঅভাগাঅর্ধাঙ্গিনীঅর্ধাঙ্গী
অপ্সরীঅপ্সরাগোপিনীগোপী
চাতকিনীচাতকীচতুর্থাচতুর্থী (কন্যা)
দিগম্বরীদিগম্বরানিরাপরাধিনীনিরাপরাধা
নাগিনীনাগীনির্দোষিনীনির্দোষা
পণ্ডিতানীপণ্ডিতাপিশাচিনীপিশাচী
বন্দিনীবন্দীবৈবাহিকাবৈবাহিকী
বিহঙ্গিনীবিহঙ্গীবিষহরীবিষহরা
ভুজঙ্গিনীভুজঙ্গারজকিনারজকী/রজকিনী
শিষ্যাণীশিষ্যাশুদ্রাণীশূদ্রা/শূদ্রী
সর্পিনীসর্পীসুকেশীনীসুকেশী/সুকেশা
  • সন্ধি-ঘটিত অশুদ্ধি

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অধঃগতিঅধোগতিঅদ্যপিঅদ্যাপি
উপরোক্তউপর্যুক্তএতদ্বারাএতদ্‌দ্বারা
কিম্বাকিংবাকিম্বদন্তিকিংবদন্তি
চক্ষুন্মীলনচক্ষুরুন্মীলনজ্যোতীন্দ্রজ্যোতিরিন্দ্র
জগৎবন্ধুজগবন্ধুজগচন্দ্রজগৎচন্দ্র
তেজচন্দ্রতেজশ্চন্দ্রতিরষ্কারতিরস্কার
তেজেন্দ্রতেজ-ইন্দ্রদুরাদৃষ্টদুরদৃষ্ট
দুরাবস্থাদুরবস্থানিরসনীরস
নিরোগনীরোগনিস্ফলনিষ্ফল
পশ্বাধমপশ্বধমবাগেশ্বরীবাগীশ্বরী
ব্যাবসাব্যবসাব্যাবধানব্যবধান
ব্যপারব্যাপারবন্দোপাধ্যায়বন্দ্যোপাধ্যায়
বশম্বদবশংবদমন্তোষমনস্তোষ
মরুদ্যানমরূদ্যানমনরথমনোরথ
মনোকষ্টমনঃকষ্টমনমোহনমনোমোহন
মনযোগমনোযোগমৃতে্যুত্তীর্ণমৃত্যুত্তীর্ণ
মনান্তরমনোন্তরযশলাভযশোলাভ
যশপ্রভাযশঃপ্রভালজ্জাস্করলজ্জাকর
শিরোপরিশিরউপরিশরচন্দ্রশরচ্চন্দ্র
শরদেন্দুশরবিন্দুশিরচ্ছেদশিরশ্ছেদ
শিরোপীড়াশিরঃপীড়াশ্রদ্ধাঞ্জলীশ্রদ্ধাঞ্জলি
সন্মুখসম্মুখস্বয়ম্বরস্বয়ংবর
  • প্রত্যয়-ঘটিত অশুদ্ধিঃ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

আলসতাআলস্যঐক্যতাঐক্য/একতা
উৎকর্ষতাউৎকর্ষদারিদ্রতাদারিদ্র্য
দোষণীয়দূষণীয়নিন্দুকনিন্দক
পরিত্যজ্যপরিত্যাজ্যপ্রযুজ্যপ্রযোজ্য
বিদ্যানবিদ্বানবরিতবৃত
ভাগ্যমানভাগ্যবানমহিমাময়মহিমময়
লক্ষ্মীমানলক্ষ্মীবানশমতাশম
সখ্যতাসখ্যসৌজন্যতাসৌজন্য
সিঞ্চিতসিক্তসিঞ্চিনসেচন
সৃজিতসৃষ্ট

বচন-ঘটিত অশুদ্ধি: একই সাথে দুবার বহুবচন বাচক প্রত্যয় বা শব্দ ব্যবহৃত হয় না। যেমন-

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

একশ বালকগণএকশ বালক
নানাবিধ পক্ষীগণনানাবিধ পক্ষী
প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবৃন্দপ্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবৃন্দ
ব্রাহ্মণগণেরাব্রাহ্মণগণ
যাবতীয় লোকসমূহযাবতীয় লোক
যাবতীয় ভদ্রমহোদয়গণযাবতীয় ভদ্রমহোদয়/ভদ্রমহোদয়গণ
সকল শিক্ষকগণসকল শিক্ষক / শিক্ষকগণ
সকল পরীক্ষকগণসকল পরীক্ষক / পরীক্ষকগণ
সব মাছগুলিসব মাছ / মাছগুলি
সকল ছাত্ররাসকল ছাত্ররা
সুন্দর-সুন্দর বইগুলিসুন্দর বইগুলি / সুন্দর সুন্দর বই
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

গিতাঞ্জলি
গীতাঞ্জলি
গিতঞ্জলী
গীতাঞ্জলী
বিদ্যুৎসাহী
বিদ্যোৎসাহী
বিদ্যুৎসাহি
বিদ্যুৎসাহী
কর্শণ
যুধিষ্ঠির
কিষাণ
অভিলাস
মুহুর্ত
মূহূর্ত
মূহুর্ত
মুহূর্ত

বাক্য শুদ্ধিকরণ

8.2k

বাক্য শুদ্ধিকরণঃ

বাক্যে শুদ্ধ প্রয়োগবিধির জন্য ভাষা ও ব্যাকরণ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকা দরকার। ব্যাকরণগত নানা ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য বাক্য অশুদ্ধ হতে পারে। এ অধ্যায়ে বাক্য কী কী কারণে এবং কীভাবে দূষিত হতে পারে, তা আলোচনা করার চেষ্টা করবো। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই আমরা নিয়মের নাম দিয়েছি এবং কিছু উদাহরণ দিয়ে তা বোঝানোর চেষ্টা করেছি। উদাহরণ দেওয়ার সময় আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি বিগত বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র থেকে প্রশ্ন দেওয়ার। আমরা সচরাচর যে ভুলগুলো করে থাকি সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিচে প্রদান করা হলো-

  • সাধু ও চলিত রীতির মিশ্রণজনিত ভুল বা অশুদ্ধি:

'জানিবার ও বুঝিবার প্রবৃত্তি মানুষের মন থেকে যেদিন চলিয়া যাবে সেদিন মানুষ আবার পশুত্ব লাভ করবে।' এ বাক্যটিতে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণের ফলে তা গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট।

সাধু (শুদ্ধ) রূপ: জানিবার ও বুঝিবার প্রবৃত্তি মানুষের মন হইতে যেইদিন চলিয়া যাইবে সেইদিন মানুষ আবার পশুত্ব লাভ করিবে।

চলিত (শুদ্ধ) রূপ: জানবার ও বুঝবার প্রবৃত্তি মানুষের মন থেকে যেদিন চলে যাবে সেদিন মানুষ আবার পশুত্ব লাভকরবে।

বানানগত অশুদ্ধি

অশুদ্ধ: আমি 'গীতাঞ্জলী' পড়েছি। (বাক্যে ব্যবহৃত 'গীতাঞ্জলী' বানানটি ভুল)

শুদ্ধ: আমি 'গীতাঞ্জলি' পড়েছি।

পদের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:

অশুদ্ধ: কাল বিতরণী হবে উৎসব স্কুলে আমাদের পুরস্কার অনুষ্ঠিত। (পদের সন্নিবেশ ঠিক না হওয়ায় ভাব প্রকাশ যথাযথ হয়নি)

শুদ্ধ: কাল আমাদের স্কুলে পুরস্কার বিতরণী উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

  • অর্থ-সামঞ্জস্যহীন পদের ব্যবহার:

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

ইক্ষুর চারা বপন করা হইল।ইক্ষুর চারা রোপন করা হইল।গণিত খুব কঠিন।গণিত খুব জটিল।
গোময় জ্বালানি কাষ্ঠরূপে ব্যবহার হয়।গোময় জ্বালানিরূপে ব্যবহার হয়।এই সভার ছাত্রগণ কর্তব্য নিরাকরণ করিবেএই সভায় ছাত্রগণ কর্তব্য নির্ধারণ করিবে।
তাহার সাঙ্ঘাতিক আনন্দ হইল।তাহার প্রচুর আনন্দ হইল।অধ্যাপনই ছাত্রদের তপস্যা।অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা।
হস্তীটি অপরিসীম স্থলাকায়।হস্তীটি অত্যন্ত স্থলাকায়।ছেলেটি ভয়ানক মেধাবী।ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী।
বঙ্কিমের প্রতিভা ছিল অতি ভয়ঙ্কর।বঙ্কিমের প্রতিভা ছিল অতি অসাধারণ।আমরা উন্নতির পথে কুঠারাঘাত করিতেছি।আমরা উন্নতির মূলে কুঠারাঘাত করিতেছি।
  • বিশেষ্যের বিশেষণ-রূপে ব্যবহার: শব্দে বিশেষ্যকে বিশেষণ-রূপে ব্যবহার করলে বাক্য অশুদ্ধির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং এ বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

আমি অপমান হয়েছি।আমি অপমানিত হয়েছি।এ কথা প্রমাণ হয়েছে।এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
আমি তোমার আগমন-সংবাদে সন্তোষ হইয়াছি।আমি তোমার আগমন-সংবাদে সম্ভ্রষ্ট হইয়াছি।রহীন সঙ্কট অবস্থায় পড়িয়াছে।রহীন সঙ্কটজনক অবস্থায় পড়িয়াছে।
সে আরোগ্য হয়েছে।সে আরোগ্য লাভ করেছে।তিনি এখন মৌনী আছেন।তিনি এখন মৌন আছেন।
দেবী অন্তর্ধান হইবেন।দেবী অন্তর্হিত হইবেন।গৌরব লোপ হইয়াছে।গৌরব লোপ পাইয়াছে।
আমার কথাই প্রমাণ হলো।আমার কথাই প্রমাণিত হলো।তাহার জীবন সংশয়পূর্ণ।তাহার জীবন সংশয়াপন্ন।
  • বিশেষণের বিশেষ্যের ন্যায় ব্যবহার:

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

ইহার আবশ্যক নাই।ইহার আবশ্যকতা নাই।ইদানীং অবকাশ নাই।আমি সাক্ষ্য দিয়েছি।
ইদানিং সাবকাশ নাই।ইদানীং অবকাশ নাই।তদ্দৃষ্টে লিখিত হইল।তদ্দর্শনে লিখিত হইল।

বচনঘটিত শুদ্ধিকরণ: একই সাথে দুবার বহুবচন বাচক প্রত্যয় বা শব্দ ব্যবহৃত হয় না। একটি বাক্যে একাধিকবার বহুবচনবাচক প্রত্যয় বা শব্দ ব্যবহারে 'বাহুল্য-দোষ' ঘটে। যেমন-

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

সকল শিক্ষকগণ আজ উপস্থিতসকল শিক্ষক আজ উপস্থিত।সদাসর্বদা তোমার উপস্থিত প্রার্থনীয়সর্বদা তোমার উপস্থিতি প্রার্থনীয়
প্রত্যেক শিক্ষকগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেনপ্রত্যেক শিক্ষক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।সর্ব বিষয়ে বাহুল্যতা বর্জন করা উচিতসর্ব বিষয়ে বাহুল্য বর্জন করা উচিত।
সকল আলেমগণ আজ উপস্থিত।সকল আলেম আজ উপস্থিত।/আলেমগণ আজ উপস্থিত।সকল মানুষেরাই মরণশীল।মানুষ মরণশীল।
সব ছাত্ররা আজ উপস্থিত।সব ছাত্র আজ উপস্থিত। / ছাত্ররা আজ উপস্থিত।সমুদয় পক্ষীরাই নীড় বাঁধে।সমুদয় পক্ষীই নীড় বাঁধে।
নীরোগ লোকরা যথার্থ সুখী।নীরোগ লোক যথার্থ সুখী।সকল সভ্যগণ এখানে উপস্থিত ছিলেন।সকল সভ্য এখানে উপস্থিত ছিলেন / সভ্যগণ এখানে উপস্থিত ছিলেন
চোরটি সব মালসুদ্ধ ধরা পড়েছে।চোরটি মালসুদ্ধ ধরা পড়েছে।

লিঙ্গঘটিত শুদ্ধিকরণ: সাধারণত পুংলিঙ্গ থেকে স্ত্রীলিঙ্গে অথবা স্ত্রীলিঙ্গ থেকে পুংলিঙ্গে রূপান্তরকালে কিছু প্রত্যয়, অতিরিক্ত শব্দ বা শব্দাংশ যুক্ত করতে হয়; যা না হলে ব্যাকরণজনিত ভুল দেখা দেয়। বিধেয় বিশেষণ অর্থাৎ বিশেষ্যের পরবর্তী বিশেষণে স্ত্রীবাচক হয়না। যেমন-

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

মেয়েটি পাগলি হয়ে গেছেমেয়েটি পাগল হয়ে গেছেআজকালকার মেয়েরা যেমন মুখরা, তেমনি বিদ্বান।আজকালকার মেয়েরা যেমন মুখরা, তেমনি বিদুষী।
রহিমা পাগলি হয়ে গেছে।রহিমা পাগল হয়ে গেছে।রাজা পাপিষ্ঠ রানীকে শাস্তি দিলেন।রাজা পাপিষ্ঠা রানীকে শাস্তি দিলেন
রাজা পাপিষ্ঠা রানীকে শাস্তি দিলেনআসমা ভয়ে অস্থির।সে এমন রূপসী যেন অপ্সরা।সে এমন রূপবতী যেন অপ্সরা।

অন্বয়ঘটিত শুদ্ধিকরণ: বাগভঙ্গি এবং প্রমিত ভাষা ব্যাকরণের সাথে সাথে সব সময় চলে না। অর্থের দিকে এবং বক্তার আবেগের মাত্রার দিকে সচেতন থাকলে এসব অশুদ্ধি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। যেমন-

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অদ্য সভায় মহতী অধিবেশন হইবে।অদ্য মহতী সভার অধিবেশন হইবে।
সহসা আগুন লাগায় ও খেলা পণ্ড হইল।সহসা আগুন লাগিল ও খেলা পণ্ড হইল।
এই স্কুলে যে-কয়জন শিক্ষক আছেন, তাঁহার মধ্যে জলিলই শ্রেষ্ঠ।এই স্কুলে যে-কয়জন শিক্ষক আছেন, তাঁহাদের মধ্যে জলিল সাহেবই শ্রেষ্ঠ।
  • অর্থ-সামঞ্জস্যহীন বাক্যের ব্যবহার: অর্থ-সামঞ্জস্যহীন বাক্য বা শব্দের অতিব্যবহার বাক্য অশুদ্ধির ক্ষেত্রে অনেক সময় গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। অর্থ প্রকাশের জন্য শব্দ নির্দিষ্ট একটি মাত্রায় ব্যবহার করা জরুরি নতুবা বাক্যে অর্থের বিপর্যয় ঘটে। যেমন-

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

শুধুমাত্র গায়ের জোরে কাজ হয় না।শুধু গায়ের জোরে কাজ হয় না।
তাহার বৈমাত্রেয় সহোদর অসুস্থ।তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা / ভাই অসুস্থ।
তাহার হৃদি কমলে জ্ঞানের বীজ উপ্ত হইল।তাহার হৃদয় ক্ষেত্রে জ্ঞানের বীজ উপ্ত হইল।
তাহার অন্তর অজ্ঞান-সমুদ্রে আচ্ছন্ন।তাহার অন্তর অজ্ঞান-সমুদ্রে নিমজ্জিত অথবা অজ্ঞান-তমসাচ্ছন্ন।
কথাটা তিনি কুম্ভীরাশ্রু বিসর্জন করিলেন।কথাটা শুনিয়া তিনি কপটাশ্রু বিসর্জন করিলেন / কথাটা শুনিয়া তিনি মায়া-কান্না জুড়িয়া দিলেন।
ছেলেটি বংশের মাথায় চুনকালি দিল।ছেলেটি বংশের মুখে চুনকালি দিল।
কথাটা আমার স্মৃতিপটে জাগরূক আছেকথাটা আমার স্মৃতিপটে অঙ্কিত আছে।
গঙ্গায় তরঙ্গের ঢেউ প্রবাহিত হইতেছে।গঙ্গায় তরঙ্গের হিল্লোল খেলিতেছে।

কি ও কী সমস্যা: প্রশ্নবোধক বাক্যে কি এবং বিস্ময়সূচক বাক্যে কী হবে। কোনো প্রশ্নের উত্তর শুধু হাঁ বা না দিয়ে হলে 'কি' বসবে এবং প্রশ্নের উত্তর যদি ব্যাখ্যাকারে দিতে হয় তাহলে 'কী' বসবে। যেমন-

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

অশুদ্ধ

শুদ্ধ

তুমি কী আজ যাবে?তুমি কি আজ যাবে?কি ভয়ানক বিপদ!কী ভয়ানক বিপদ!
তুমি কী ঢাকা যাবে?তুমি কি ঢাকা যাবে?কারক কত প্রকার ও কি কি?কারক কত প্রকার ও কী কী?
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

তার জীবন সংশয়পূর্ণ
তার জীবন সংশয়াময়
তার জীবন সংশয়াপূর্ণ
তার জীবন সংশয়ভরা
দৈন্যতা কোনো সময়েই প্রশংসনীয় নয়।
দৈন্যতা কখনোই প্রশংসনীয় নয়।
দীনতা কোনো সময়েই প্রশংসনীয় নয়।
কোনোটিই নয়
খাটি শব্দটি দুধ কে বিশেষায়িত করেছে
গাভীকে বিশেষায়িত করেছে
বহুল ব্যবহৃত বলে অশুদ্ধতা হারিয়েছে
বিশেষন যে কোন স্থানে ব্যবহার করা যায়
অধ্যায়নই ছাত্রদের তপস্যা
সে ইতঃপূর্বে তিনবার জেল খেটেছে
এ কি দুরাবস্থা হলো আমার
দারিদ্রতা আমাদের প্রধান সমস্যা।
এখানে সে ফিরে আসেনি
সে আসিবে বলিয়া ভরসাও করিতেছি না
তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়েছেন
তুমি তার কথা বিশ্বাস করো না

বাচ্য (ব্যাংলা ব্যাকরণ)

3.4k

বাচ্য হচ্ছে বাংলা ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। বাক্যের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে। বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার ভূমিকা বদলে গিয়ে একই বক্তব্যের প্রকাশভঙ্গি আলাদা হয়ে যায়। ক্রিয়া কখনো কর্তাকে অনুসরণ করে, ক্রিয়া কখনো কর্মকে অনুসরণ করে, আবার ক্রিয়াই কখনো বাক্যের মধ্যে মুখ্য হয়ে ওঠে। যেমন: সে বাজারে যায়। সাহসী ছেলেটিকে পুরস্কৃত করা হয়ছে। কোথায় যাওয়া হচ্ছে।

বাচ্যের প্রকারভেদঃ

বাচ্য প্রধানত তিন প্রকার। যথা:

১. কর্তৃবাচ্য

২. কর্মবাচ্য

৩. ভাববাচ্য।

  • এছাড়াও কর্মকর্তৃবাচ্য নামে আরও এক প্রকার বাচ্য আছে।
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

কর্তাবাচ্য
কর্মবাচ্য
ভাববাচ্য
করণবাচ্য
কোনটিই নয়
কর্মকর্তৃবাচ্য
কর্তৃবাচ্য
ভাববাচ্য
যৌগিকবাচ্য
কর্মবাচ্যের
কর্তৃবাচ্যের
ভাববাচ্যের
কর্ম-কর্তৃবাচ্যের
কোনটিই নয়

কর্তা

1.7k

ব্যাকরণে 'কর্তা' হলো বাক্যের সেই বিশেষ্য বা সর্বনাম পদ, যা স্বাধীনভাবে ক্রিয়া সম্পাদন করে বা কাজ সম্পন্ন করায়। ক্রিয়াপদকে "কে" বা "কারা" দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তা-ই কর্তা বা কর্তৃকারক । এটি মূলত বাক্যের প্রধান ব্যক্তি, প্রভু, বা মালিককে নির্দেশ করে ।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ব্যাতিহার কর্তা
মুখ্য কর্তা
প্রযোজক কর্তা
প্রযোজ্য কর্তা

কর্ম

1.6k

ব্যাকরণে, কর্তা যাকে আশ্রয় করে বা যার ওপর ভিত্তি করে ক্রিয়ার কাজ সম্পাদন করে, তাকেই কর্ম বা কর্মকারক বলে ।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সে বই পড়ছে
সে গভীর চিন্তায় মগ্ন
সে ঘুমিয়ে আছে
সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না

কর্তাবাচ্য বা কর্তৃবাচ্য

1.7k

কর্তৃবাচ্য: যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রাধান্য বিদ্যমান থাকে এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে। যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে।
যেমন: আমি ভাত খেয়েছি।

রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলি লিখেছেন।

ছাত্ররা অঙ্ক করছে।

ঝরনা ছবি আঁকে।

আমি আগামীকাল বাড়ি ফিরব।

কর্তৃবাচ্যের বৈশিষ্ট্য:

ক. এ বাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়ে থাকে।

খ. এ বাচ্যে ক্রিয়া সকর্মক ও অকর্মক দুই-ই হতে পারে।

গ. এ বাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়। যেমন: শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।

রোগী পথ্য সেবন করে।

ঘ. অজীব বিশেষ্যও অনেক সময় কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে।

যেমন: ফ্যানটা অনেক জোরে ঘুরছে।

শরতে শিউলি ফোটে।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

কর্মবাচ্য
ভাববাচ্য
কর্তৃবাচ্য
কর্মকর্তৃবাচ্য

কর্মবাচ্য

1.3k

কর্মবাচ্য: যে বাক্যে কর্মের সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধ প্রধানভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে। যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে। যেমন:

আমার ভাত খাওয়া হয়েছে।

শিকারী কর্তৃক ব্যাঘ্র নিহত হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক গীতাঞ্জলি লিখিত হয়েছে।

পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।

চিঠিটা পড়া হয়েছে।

কর্মবাচ্যের বৈশিষ্ট্য:

ক. এ বাচ্য কেবল সকর্মক ক্রিয়া হইতে গঠিত হয়।

খ. এ বাচ্যে ক্রিয়াপদ কর্মের অনুসারী হয়।

গ. এ বাচ্যে কর্মে প্রথমা, কর্তায় তৃতীয়া বিভক্তি ও দ্বারা, দিয়া (দিয়ে), কর্তৃক অনুসর্গ ব্যবহৃত হয়। যেমন: আলেকজান্ডার কর্তৃক পারস্য দেশ বিজিত হয়। চোরটা ধরা পড়েছে।

ঘ. কখনো কখনো কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হতে পারে। যেমন: আসামিকে জরিমানা করা হয়েছে।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

তা, আপনার কী করা হয়
দূর থেকে পাহাড় নিচু মনে হয়
কেমন শীত শীত করছে
আসামীকে জরিমানা করা হয়েছে

ভাববাচ্য

1.7k

ভাববাচ্য: যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে। যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে। যেমন: সেঁজুতির ঘুমানো হলো না। আমার খাওয়া হল না। আমার যাওয়া হলো না। কোথা থেকে আসা হলো।

ভাববাচ্যের বৈশিষ্ট্য:

ক. এ বাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়।

খ. এ বাচ্য কেবল অকর্মক ক্রিয়া হইতে গঠিত হয়।

গ. এ বাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া বা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়। যেমন: আমাকে এখন যেতে হবে। তোমার দ্বারা এ কাজ হবে না।

ঘ. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়। যেমন: এ পথে চলা যায় না। এ বার ট্রেনে ওঠা যাক। কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

ঙ. মূল ক্রিয়ার সাথে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাব বাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন: এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না। এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

ভাববাচ্য
কর্তৃবাচ্য
কর্মবাচ্য
কর্মকর্তৃবাচ্য
আমি আর গেলাম না
এবার মাছ ধরা যাক
আম বোধ হয় পেকেছে
কুকুর লোকটিকে কামড়াল
আমি আর গেলাম না
এবার মাছ ধরা যাক
আম বোধ হয় পেঁকেছে
কুকুর লোকটিকে কামড়ালো

কর্ম-কর্তাবাচ্য

1.3k

কর্মকর্তৃবাচ্য: যে বাচ্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে। যেমন: বাঁশি বাজে এ মধুর লগনে। তোমাকে রোগা দেখায়। কাজটা ভালো দেখায় না। সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

Content added By

বাচ্যান্তর

1.2k

বাচ্য পরিবর্তনঃ

বাচ্য পরিবর্তনে ক্রিয়ার ভাব পরিবর্তিত হয়, কিন্তু ক্রিয়ার কাল পরিবর্তিত হয় না এবং বাচ্য পরিবর্তনে বাক্যের (সরল, যৌগিক জটিল) প্রকারের পরিবর্তন হয় না।
কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তন

কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তন:

  • বাক্যের অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
  • কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া সকর্মক হলে সে বাক্যকে কর্মবাচ্যের বাক্যে পরিবর্তন করা যাবে।
  • কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কর্তা ও কর্মের পরিবর্তন ঘটে।
  • কর্তার সঙ্গে দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক ইত্যাদি অনুসর্গ যোগ করতে হয়।
  • কর্মের প্রাধান্য থাকায় ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।

কর্তৃবাচ্য

কর্মবাচ্য

আমি বই পড়েছি।আমার বই পড়া হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'গীতাঞ্জলি' চেনা করিয়াছেন।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক 'গীতাঞ্জলি' রচিত হইয়াছে
বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
জাহানারা ইমাম একাত্তরের দিনগুলি রচনা করেছেন।জাহানারা ইমাম কর্তৃক একাত্তরের দিনগুলি রচিত হয়েছে।
তারা বাড়িটি তৈরি করেছে।তাদের দ্বারা বাড়িটি তৈরি হয়েছে।

কর্মবাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্যে পরিবর্তন:

  • বাক্যের অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
  • দিয়া, দ্বারা, কর্তৃক প্রভৃতি লুপ্ত হয়ে তা শূন্য বিভক্তিযুক্ত হবে।
  • ক্রিয়া কর্তার অনুসারী হবে।

কর্মবাচ্য

কর্তৃবাচ্য

নজরুল কর্তৃক 'অগ্নিবীণা' লিখিত হয়েছে।নজরুল 'অগ্নিবীণা' লিখেছেন
তোমা হতে আমার শান্তি আসলো না।তুমি আমাকে শাস্তি দিলে না।
আমা দ্বারা ফুল তোলা হয়েছে।আমি ফুল তুলিয়াছি।
হালাকু খাঁ কর্তৃক বাগদাদ বিধ্বস্ত হয়।হালাকু বাঁ বাগদাদ ধ্বংস করেন।
প্রধান শিক্ষক কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়েছে।প্রধান শিক্ষক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন।
আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।আমরা কঠোর পরিশ্রম করি।

কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্যে পরিবর্তন:

ক. বাক্যের অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।

খ. ক্রিয়ার প্রাধান্য থাকবে।

গ. কর্তৃবাচ্যের কর্তার সাথে 'র' আ 'এর'; ক্ষেত্রবিশেষে 'কে' বা 'দের' বিভক্তি যুক্ত হয়।

কর্তৃবাচ্য

ভাববাচ্য

আমি আর গেলাম না।আমার আর যাওয়া হলো না।
তোমরা কখন এলে?তোমাদের কখন আসা হলো?
এবার তাহলে আসি।এবার তাহলে আসা যাক।
আমি যাব না।আমার যাওয়া হবে না।
তুমিই ঢাকা যাবে।তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
তুমি কখন এলে?কখন আসা হলো?
ওখানে কেন গেলে?ওখানে কেন যাওয়া হলো?

ভাববাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্যে পরিবর্তন:

ক . বাচ্যের অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।

খ. ও, এর, কে প্রভৃতিযুক্ত পদের বিভক্তি লোপ পেয়ে কর্তৃপদে পরিণত হবে।

গ. কর্তৃপদের অনুসারী ক্রিয়া ব্যবহৃত হবে।

ভাববাচ্য

কর্তৃবাচ্য

তোমাকে হাঁটতে হবে।তুমি হাঁটবে।
কোথায় থাকা হয়।কোথায় থাক।
একটি গান করা হউক।একটি গান কর।
এবার একটি গান করা হোক।এবার (তুমি) একটি গান কর।
তার যেন আসা হয়।সে যেন আসে।
একটু বাহরে বেড়িয়ে আসা যাক।একটু বাইরে বেড়িয়ে আসি।
এবার বাঁশিটি বাজানো হোক।এবার বাঁশিটি বাজাও।

Content added By

উক্তি (ব্যাংলা ব্যাকরণ)

1.4k

বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে।

উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি। যেমন-

ছেলেটি বলেছিল, "আজ আমি অনেক পড়েছি।" এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে। এটি পরোক্ষ উক্তি।

উক্তি পরিবর্তন

প্রত্যক্ষ উক্তির যেখান থেকে উদ্ধারচিহ্ন শুরু হয়, পরোক্ষ উক্তিতে সেখানে যোজক 'যে' বসে এবং উদ্ধারচিহ্ন উঠে যায়। যেমন-

প্রত্যক্ষ উক্তি: নেতা বললেন, “আমি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।”

পরোক্ষ উক্তি: নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

অর্থের সংগতি রাখার জন্য বাক্যে ব্যবহৃত সর্বনামের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। যেমন-

প্রত্যক্ষ উক্তি: রাজীব বললো, "আমি বাগান করা পছন্দ করি।"

পরোক্ষ উক্তি: রাজীব বললো যে, সে বাগান করা পছন্দ করে।

প্রত্যক্ষ উক্তি: মিহির বললো, "আমার জানামতে সবুজ এ বাসায় থাকে।"

পরোক্ষ উক্তি: মিহির বললো যে, তার জানামতে সবুজ সে বাসায় থাকতো।

পরোক্ষ উক্তিতে কর্তা অনুযায়ী ক্রিয়ারূপের পরিবর্তন করতে হয়। যেমন-

প্রত্যক্ষ উক্তি: লিপি বলল, "আমি এখনই বের হচ্ছি।"

পরোক্ষ উক্তি: লিপি বলল যে, সে তখনই বের হচ্ছে

প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার সময়ে কালবাচক ও স্থানবাচক শব্দের পরিবর্তন হয়।

যেমন -

প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন, "আমি আগামীকাল এখানে আবার আসব।"

পরোক্ষ উক্তি: লোকটি বললেন যে, তিনি পরদিন সেখানে আবার যাবেন

প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনো পরিবর্তন হয় না। যেমন-

প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, "চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।"

পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।

প্রশ্ন, অনুজ্ঞা ও আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করতে ভাব অনুযায়ী ক্রিয়ার পরিবর্তন করতে হয়। যেমন-

প্রত্যক্ষ উক্তি: মা আমাকে বললেন, "তোমাদের স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি হবে কবে?"

পরোক্ষ উক্তি: মা আমার কাছে জানতে চাইলেন কবে আমাদের স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি হবে।

প্রত্যক্ষ উক্তি: লোকটি আমাকে বললেন, ‘অনুগ্রহ করে আপনি সামনের আসনে বসুন।’

পরোক্ষ উক্তি: লোকটি আমাকে সামনের আসনে বসতে অনুরোধ করলেন।

প্রত্যক্ষ উক্তি: ছেলেটি বলে উঠলো, 'বাহ! কী সুন্দর বাড়ি।'

পরোক্ষ উক্তি: ছেলেটি আনন্দের সঙ্গে বললো যে, বাড়িটি খুব সুন্দর।

Content added || updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাজী নজরুল ইসলাম
প্রমথ চৌধুরী
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ভারতচন্দ্র রায়
চন্ডীদাস
বড়ু চণ্ডীদাস
অতুলপ্রসাদ সেন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
চন্ডীদাস

প্রত্যক্ষ উক্তি

1.5k

প্রত্যক্ষ উক্তি যে বাক্যে বক্তার কথা অবিকল উদ্ধৃত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে।

খোকা বলল, “আমার বাবা বাড়ি নেই ।”

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

বাবা ছেলেকে বললেন, বাবা তুমি দীর্ঘজীবী হও
বাবা ছেলেকে বললেন যে, তোমার দীর্ঘায়ু হোক
বাবা ছেলেকে বললেন, ‘তুমি দীর্ঘজীবী হও’
বাবা ছেলেকে বললেন যে, আমি তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করি
গ্রহণ করতে হবে
পরিবর্তন করতে হবে
অবিকল লিখতে হবে
বর্জন করতে হবে

পরোক্ষ উক্তি

1.2k

যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরোক্ষ উক্তি।

নেতা বললেন যে, তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...